Read সেই সময় by Sunil Gangopadhyay Online

সেই সময়

SEI SOMOY[Novel] by Sunil Gangopadhyayপরচছদ – পূরণেনদু পতরীএই সেই সময় যখন কলকাতার বাবুসমাজ সুরা, নারী ও বুলবুলি-বিলাসে মগন, যখন নবযশিকষিত যুবকেরা পরাণপণে ইংরেজ-অনুকরণে মতত, গরাম নিঃসব করে পরজাশোষণের অরথে চলেছে সংসকৃতি চরচা, সমাজ ও ধরমসংসকার, তরুণ বিদযাসাগর রাতরি জেগে রেড়ির তেলের আলোয় রচনা করছেন বাংলা গদযভাষা, জেগে উঠছে মধযবিতত শরেণী, এই সেই সময় – হযাঁ, একটি বিশেষ সময়ই সুনীSEI SOMOY[Novel] by Sunil Gangopadhyayপ্রচ্ছদ – পূর্ণেন্দু পত্রীএই সেই সময় যখন কলকাতার বাবুসমাজ সুরা, নারী ও বুলবুলি-বিলাসে মগ্ন, যখন নব্যশিক্ষিত যুবকেরা প্রাণপণে ইংরেজ-অনুকরণে মত্ত, গ্রাম নিঃস্ব করে প্রজাশোষণের অর্থে চলেছে সংস্কৃতি চর্চা, সমাজ ও ধর্মসংস্কার, তরুণ বিদ্যাসাগর রাত্রি জেগে রেড়ির তেলের আলোয় রচনা করছেন বাংলা গদ্যভাষা, জেগে উঠছে মধ্যবিত্ত শ্রেণী, এই সেই সময় – হ্যাঁ, একটি বিশেষ সময়ই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের এই সুকীর্তিত উপন্যাসের মুখ্য চরিত্র। তিনি নিজেও এ-উপন্যাস সম্পর্কে লিখতে গিয়ে বলেছেন – “আমার কাহিনীর পটভূমিকা ১৮৪০ থেকে ১৮৭০ খ্রীষ্টাব্দ। এবং এই কাহিনীর মূল নায়কের নাম সময়।” লিখেছেন, “সময়কে রক্ত-মাংসে জীবিত করতে হলে অন্তত একটি প্রতীক চরিত্র গ্রহণ করতে হয়। নবীনকুমার সেই সময়ের প্রতীক। তার জন্মকাহিনী থেকে তার জীবনের নানা ঘটনার বৈপরীত্য, শেষ দিকে এক অচেনা যুবতীর মধ্যে মার্তৃরূপ দর্শন এবং অদ্ভুত ধরনের মৃত্যু, সবই যে সেই প্রতীকের ধারাবাহিকতা, আশা করি তা আর বিশদভাবে এখানে বলার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনীয় কথা শুধু এই যে, নবীনকুমারের চরিত্রে এক অকাল-মৃত অসাধারণ ঐতিহাসিক যুবকের কিছুটা আদল আছে। অন্য কোনো প্রসিদ্ধ পুরুষের নাম বা জীবনকাহিনী আমি বদল করিনি....”। সত্যিই তাই। নাটকের শুরুতে যেমন দেওয়া থাকে পাত্রপাত্রীর নাম ও পরিচয়, তেমনভাবে এই বিপুল বর্ণাঢ্য উপন্যাসের গোড়াতেই যদি দেওয়া থাকত নবীনকুমারের সমকালীন চরিত্রাবলির নাম, বস্তুতই বিস্ময়কর মনে হত সেই তালিকা। মাইকেল, বিদ্যাসাগর, ডিরোজিও, হেয়ার সাহেব, দেবেন ঠাকুর - কে নেই। সমগ্র ঊনবিংশ শতাব্দীই যেন নানান চরিত্র হয়ে চোখের সামনে জীবন্ত। যেটুকু তফাৎ তা হল, গবেষকের রচনায় প্রাণ থাকে না, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সেই প্রাণটি প্রতিষ্ঠা করেছেন।এক দুরন্ত সময়ের জীবন্ত চলচ্চিত্র ‘সেই সময়’। বঙ্কিম ও আকাদেমি পুরস্কারে সম্মানিত এই গ্রন্থের দুটি খণ্ডকে এক মলাটের মধ্যে এনে সম্পূর্ণ নতুন আকারে প্রকাশিত হল এই রাজসংস্করণ। এ-গ্রন্থের বিপুল সমাদর ও স্থায়ী কীর্তিমূল্যের কথা ম্ননে রেখে এ-এক আনন্দ-শ্রদ্ধাঞ্জলি।...

Title : সেই সময়
Author :
Rating :
ISBN : 9788170669708
Format Type : Hardcover
Number of Pages : 709 Pages
Status : Available For Download
Last checked : 21 Minutes ago!

সেই সময় Reviews

  • Sim
    2019-03-07 09:44

    This is the book that made me understand and appreciate my heritage in a way nothing else ever did. Brilliant translation by Aruna Chakraborty! I just wish I had the reading skills to read the original :)

  • Śrī
    2019-02-18 15:45

    Sunil Gangopadhyay's Those Days is Bengal's answer to Tolstoy's War and Peace. Methodologically, both authors have approached the writing in the same way: an influential historical period is chosen — the Bengal Renaissance starting in the 1820s, all the way up to the 1870s in Those Days and the Napoleonic Wars in War and Peace — and characters [both historical and fictional] are used to give a sense of the period. Both authors take licence with putting words in the mouths of real people but do it so skilfully that one doesn't question whether that person would really have behaved in that way. The fictional characters are likewise constructed with such skill that one doesn't feel them to be out of place. Along with weaving a story that keeps the reader from putting his book down Gangopadhyay, like Tolstoy, provides sharp historical analysis that one can't help agreeing with. Particularly striking is Gangopadhyay's unstinting nationalism. He isn't afraid to criticise his countrymen, be they Hindu, Muslim or Christian for their tacit support, passive inaction or active support, respectively, of the colonial British government. Likewise, Gangopadhyay is fair in praising those British he sees as being positive role models.Where the comparison ends between Tolstoy and Gangopadhyay is on the question of the narratorial "Voice". Tolstoy's narrator is infamous for declaring, in a "Voice of God", that Nikolai Rostov experienced the happiest moment of his life in the middle of a fox hunt. The same narrator makes numerous claims to truth that no ordinary narrator would be able to make. Gangopadhyay shows restraint in such portions. Certainly, this being a realist novel with touches of modernism, the narrator is timeless and omniscient, but nowhere does he exhibit the arrogant self-confidence in proclaiming certain view points to be "Truth," a literary sin of which Tolstoy was and is often accused.Clearly as much credit goes to the translator, Aruna Chakravarthy, as the author himself. I don't know Bengali so I can't evaluate the accuracy of the translation. However, a difficult task in any translation is to render the idiom, especially of the language of a previous century with such vast differences in social convention, in such a way as to make the dialogue both believable and engaging. In this latter task, I feel confident in saying that Chakravarthy has done a wonderful job. Not once did I want to put the book down while I was reading it, nor did ever feel that something that came from a character's mouth was jarring or out of place.All in all, this is a wonderful read and it is an absolute must for anyone who is teaching a course on Indian history or the Indian historical novel. I would recommend anyone with the patience for a historical novel to read this; you won't regret it.

  • নীলা (Neela)
    2019-02-22 08:52

    সুনীলের টাইম ট্রিলজীর তিনটি উপন্যাসই অসাধারণ!শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মুগ্ধ হয়ে পড়েছি। এই উপন্যাসের প্রতিটি পৃষ্ঠা পড়তে পড়তে আমিও যেন চলে গিয়েছি সেই সময়ে, এ যেন এক ভ্রমন উপন্যাস! “নবীনকুমার বিভ্রান্তিকর আলোর স্বরূপ চিনে যেতে পারলো না। জীবনের শেষ কথাটি উচ্চারন করে অপরাহ্ণে তার চৈতন্য বিলুপ্ত হয়েছিল, তার হৃদস্পন্দন থেমে গেল পরদিন প্রত্যূষে। তার সৌন্দর্য-পিপাসু মন পূর্ণ যৌবনে এসে একটা বাঁক নিয়েছিল, অকস্মাৎ তাকে চলে যেতে হল।”শেষটায় কেমন যেনো এক সুক্ষ্ণ বেদনাবোধ কাজ করেছে!

  • Soumyabrata Sarkar
    2019-03-18 12:03

    18th Century Calcutta!!An Extravagant Environment, with all Glory, Splendor, Grandeur and Magnificence, this is nothing but an EPIC!!Featuring Powerful Personalities of Indian Renaissance :- Ishwarchandra Bidyasagar, Bankim Chandra Chatterjee, Michael Madhusudan Dutt, Debendranath Tagore, Rani Rashmoni, bit of Sepoy Mutiny, Dinabandhu Mitra, Mangal Pandey, Pramath Nath Bishi, Henri Derozio, John Bethun. . . . . . . . who isn't there!!??Fact and Fiction mixed up to form an unique and magnanimous quanta of literature!!Seriously, One should read this book at least once in her/his lifetime!! This can't be explained in mere words!!Story - 9[i am cutting one for its lengthiness a bit].Writing Style - 10[no choice. Its just brilliant]Environment - 8.5[vast and enormous]Characterization - 10[Again!]Overall - 9.375VERDICT - OUTSTANDING EPIC!! just read it!!

  • Nawrin Boshra
    2019-03-14 17:00

    সম্ভবত সুনীলের সেরা লেখা। আঠারশ শতকের বাংলাকে কেন্দ্র করে লেখা এক অসামান্য উপন্যাস "সেই সময়"। সেই সময়কালের বাংলার ঐতিহাসিক নানা চরিত্রের যেন পুনর্জন্ম ঘটেছে এই উপন্যাসের মধ্য দিয়ে।কোনও নির্দিষ্ট চরিত্রকে ঘিরে নয়, এই উপন্যাসের পত্তন এবং বিকাশ নানা চরিত্রের মধ্য দিয়েই। যদিও নবীনকুমারের জীবনকালই এই উপন্যাসের সময় ব্যাপ্তি, কিন্তু তা সত্ত্বেও স্বয়ং লেখকের মত করেই বলতে হয়, 'সময়ই এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র'।যাদেরকে ঘিরে এই উপন্যাস, তাদের বেশিরভাগই নিজ কর্মগুণে অন্তত কিছুটা হলেও আমাদের চেনা, তবে তাদের সম্পর্কে আরও কিছুটা জানা হয় এই বইয়ের মধ্য দিয়ে। রাজা রামমোহন, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কিংবা মাইকেল মধুসুদনের বিভিন্ন কীর্তি কিংবা মানুষ হিসেবে তাদের নানা দিক গল্পের ছলে উঠে এসেছে দারুণ মুনশিয়ানায়।এই বইটি পড়েই সুনীলের লেখার ভক্ত হয়েছি। সবসময়ের প্রিয় বইয়ের তালিকায় থাকবে "সেই সময়"।

  • Samidhya Sarker Torsho
    2019-03-03 12:55

    ঐতিহাসিক উপন্যাস আমার সবসময় ই পছন্দের। এর আগে জোছনা ও জননীর গল্প, মধ্যাহ্ন এগুলো পড়েছি। এরপর এই চমৎকার জিনিসটি হাতে পেলাম।এই উপন্যাস টা পড়তে গিয়ে প্রতি পদে পদে রোমাঞ্চিত হয়েছি। ইতিহাস, রাজনীতি, রোমান্স লেখক সবকিছু অপূর্বভাবে মিশ্রিত করেছেন। লেখাটার পটভূমি আঠারো শতকের কোলকাতা। এই শহরটার জন্মই হয়েছিল ইংরেজদের হাত ধরে। আর শহরটা গড়ে ঊঠেছে ইংরেজদের আনুকূল্য পাওয়া হিন্দু জমিদারদের হাত ধরে। এই শহরের মাধ্যমে পাশ্চাত্য সভ্যতা/সংস্কৃতি যেমন আমাদের হাতে এসেছে, তেমনি জমিদারদের বিলাসব্যসন হেতু অনেক পাপও হয়েছে এই শহরকে ঘিরে। বাংলার জাত্মাভিমান এর শুরু এই শহর থেকেই। এই জাত্মাভিমান আস্তে আস্তে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদে রূপ নিয়েছে।অস্থির একটা বই।

  • Sujoy Nath
    2019-02-20 12:46

    my favorite! but the original Bengali version (Sei Somoy) is recommended to get the true flavor...

  • Arvind
    2019-03-18 13:58

    Can proudly say that this is the best historical fiction i have read so far. The society of the time is brilliantly depicted and one is completely immersed. The widow-remarriage act, child-marriages, education, 1857, indigo-farming etc have all been covered aptly.Also, hats-off to the translator Aruna Chakravarti. The reading experience was smooth and she almost made herself invisible ! Came to know later that she too has written books on the same era. Will be reading the sequel First Light soon.

  • আব্দুল কুদ্দুস বিশ্বাস
    2019-03-13 16:01

    সেই সময় পড়ার সময় বারবার মনে হচ্ছিল আমি সেই সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। নিজেকে কখনো গঙ্গারাম আবার কখনো নবীন কুমার বলে ভ্রম হচ্ছিল। ইতিহাসভিত্তিক উপন্যাস হিসেবে সেই সময় ১০ এ ১০ পাওয়ার যোগ্য। বাঙালির ইতিহাসে মহাপুরুষরা এখানে রক্ত মাংসের মানুষ হয়ে আটকে আছে। পড়ার সময় মনে হবে, সে মানুষগুলো যেন জীবন্ত হয়ে উঠে। একেবারে আশাপাশের মানুষ বলে মনে হয়। আক্ষেপ হয়, যদি সেই সময়টায় থাকতে পারতাম। ....... সময় পেলে বিস্তারিত লেখার ইচ্ছা রইল।

  • Jaya
    2019-03-14 13:44

    Originally published in Bengali as Sei Somoy, this book provides magnificent insights into 19th century Bengal - the extravagance and the worldliness, the poverty and the social revolutions - as the British cement their presence at Fort St William. The story revolves around the zamindars and the people who serve them. Bengal is buzzing with revolutionary ideas. Derozio's influence lingers on some young men who take to western ways with great keenness; others, after a period of denigrating Bengali, begin to see merit in their mother-tongue and try to modernise their literature. Schools are being set up for girls. At the same time, the zamindars and the nawabs see their clout diluted. Cracks appear as various groups ponder over who should actually rule India - the weak Bahadur Shah Zafar or the white imperialists. As farmers are forced to grow indigo and soldiers made to use cartridges greased with cow and pig fat, unrest is clearly in the air.Reformers and writers of the time populate the story: Ishwar Chandra Vidyasagar, Michael Madhusudan Dutt, Debendranath Thakur, Harish Mukherjee, and Kaliprasanna Singha are some of the key figures through whom Sunil Gangopadhyay operates. The women, as was probably the case in those years, are usually subservient, acting as muses to their men, or wallowing in their ignorance. Conditioned to believe that education is of no use to them, and that their duty is to bear children and generally be doormats to their husbands, they do not bat an eyelid when the latter go off to spend their nights with their mistresses. Where a woman dares to sleep with a man outside her marriage, or a widow to have desires, she is suitably punished.This book made me imagine what it must have been like to be a man in those days (and in many cases, even today) - you can raise your voice and impress your authority upon others, without fear of retribution. You lay down laws of your own making and have to fear, occasionally, only your own conscience or your lack of self-control. Women, on the other hand, suffer physical as well as mental agony constantly. They live in fear of their men, of rape, widowhood, and social stigma. And in the exceptions in the book where they do manage to earn some semblance of power (Sohagbala and Thakomoni, for example), they use it poorly.Gangopadhyay deals extensively with widow remarriage and, to a certain extent, caste distinctions. None of the characters really has a lives-happily-ever-after arc in the denouement, perhaps in a nod to colonialism and the consequent (often necessary) upheaval; as the story closes, we see the transition from leanings towards the Brahmo Samaj to the emergence of socialism, as the youngest character we know of ponders over something he has just read.This is the kind of book that should supplement history lessons at school. While delving into the past, it helps shape our understanding of the present. And if you know the Calcutta of today, Gangopadhyay's novel will resonate well with you.

  • Arpita
    2019-03-19 10:59

    বইয়ের নাম : #সেই_সময়লেখক : #সুনীল_গঙ্গোপাধ্যায়প্রকাশক : #আনন্দপ্রথম অখন্ড সংস্করণ : ১ লা বৈশাখ ১৩৯৮পৃষ্ঠা : ৭০৮মূল্য : ৪০০/-বইয়ের শেষে গ্রন্থপঞ্জী রয়েছে। কিছু লেখা পড়তে হয় না বরং পাঠককে পড়িয়ে নেয়, এই সেই গোত্রের উপন্যাস।উপন্যাস জুড়ে রয়েছে চরিত্রের ভীড়, মাইকেল, গৌর বসাক বিদ্যাসাগর, ডিরোজিও, হেয়ার সাহেব, বেথুন,ঈশ্বরগুপ্ত, বঙ্কিমচন্দ্র, প্যারীচাঁদ, কালীপ্রসন্ন, হেমচন্দ্র, রাসমণি, রামকৃষ্ণ ... কিন্তু মজার ব্যপার হল কোনও চরিত্রই ভীড়ে হারিয়ে যায়না বরং স্বমহিমায় ফিরে ফিরে এসে পাঠককের কাছে নিজের দাবী তুলে ধরেন।উপন্যাস জুড়ে আছে একটার পর একটা ঐতিহাসিক ঘটনা, বিধবা বিবাহ প্রচলন, সিপাহী বিদ্রোহ, নীলচাষ, মহারানীর রাজত্বকাল, সেই সময়ের বাবু সমাজের চিত্র, জাতের ভেদাভেদ, অন্দরমহলের নারীদের মনের খবর, পতিতালয় আরো কত কি... বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয় থেকে শুরু করে মাইকেলের মেঘনাদবধ কাব্য ছুঁয়ে বঙ্কিমের কপালকুন্ডলা, আহা! উপন্যাসটিকে সেই সময়ের মানসভ্রমণ বলা যেতেই পারে। উপন্যাসের সময়কাল ১৮৪০-১৮৭০ খ্রীঃ আর এই সময়কে প্রতীক হিসেবে ধরে সুনীলবাবু এঁকেছেন নবীনকুমার চরিত্রটি, তাঁর জীবনের গতিধারা অনুসরন করতে করতে পাঠক উপন্যাসের উপাম্তে এসে পৌঁছায়। এক দুরন্ত সময়ের জীবন্ত চলচ্চিত্র হল উপন্যাসটি। পড়তে পড়তে অবাক হয়ে যেতে হয় এই উপন্যাস কখনই তথ্য ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠেনি, লেখক এতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। যদি ইতিহাসই জানতে হয় তবে ইতিহাস বই পড়াই শ্রেয় কিন্তু এই উপন্যাসের মূল উপাদান বা নায়ক সময় হলেও রসের ভিয়ানে চাপিয়ে লেখক তা আমাদের কাছে পরিবেশন করেছেন তাই পাঠকের মনন ক্ষুধার নিবারণ ঘটে তাতে সন্দেহ নেই। উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল 'দেশ' পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে আড়াই বছর ধরে। বঙ্কিম ও আকাদেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত এই গ্রন্থের দুটি খন্ড একমলাটে প্রকাশিত।পুনশ্চ : বইটি আমার ঘরে এসেছিল কুরিয়ারে গত জন্মদিনের উপহার হিসেবে। পাঁচমাস কেটে যাওয়ার পর পড়া শুরু করি, পড়তে সময় লেগেছে আটদিন। বইটির প্রতি আমার আকর্ষণ এতটাই প্রবল হয়ে উঠেছিল যে নেট প্যাক শেষ হয়ে গেলেও ভরাই নি, অফিস থেকে ফিরে আর অফিস যাওয়ার আগে পর্যন্ত বইটা পড়েছি...একাকীত্বের আলোয়ান গায়ে জড়িয়ে এমন উপন্যাসকে কাছে পাওয়ার থেকে সুখকর আর কিছু হতে পারেনা।ধন্যবাদ বন্ধু এত ভালো #উপহার দেওয়ার জন্য।

  • Samius Sami
    2019-03-04 10:04

    সুনীলের সাথে আমার প্রথম পরিচয় এই উপন্যাসটার মাধ্যমেই।এসএসসি পরীক্ষা চলছিল,সেই পরীক্ষার পড়া বাদ দিয়েনেশাগ্রস্থ হয়ে ছিলাম এই উপন্যাসের মধ্যে।উপন্যাসটা পড়ে আমি এতটা সম্মোহিত হয়ে যাই যেটা বর্ণনায়বোঝাতে পারবো না।উপন্যসটাকে যে আমি কিভাবে সংজ্ঞায়িত করবো সেটাইআমার অজানা।খালি মনে হচ্ছিল,এরকম একটা উপন্যাস হওয়া কি সম্ভব?এতটা সম্মোহনী ক্ষমতাও কি একটা উপন্যাসের থাকে?বিভিন্ন বিখ্যাত চরিত্রের উপস্থিতিতে ভরপুর এই উপন্যাস।এখানে মূলত সময়ের ওপরেই আলোকপাত করা হয়েছে।ইতিহাসেরসেই সময়,একজন মানুষের জীবনের বিভিন্ন সময়,তার উত্থানপতনএসবই এই উপন্যাসের মূল উপাদান।এখানে সুনীল কোনো লেখকের ভূমিকা পালন করেন নি।তিনিছিলেন একজন শিল্পী।যিনি সেই সময়টাকে একেবারে নিখুঁতভাবে এঁকেছেন।উপন্যাসটি পড়তে পড়তে আমি কখন যে নিজেকে উপন্যাসটিরবিভিন্ন চরিত্রের মধ্যে আবিষ্কার করে ফেলেছি,তা নিজেওবুঝে উঠতে পারি নি।ক্ষণেই মনে হতো আমি যেন নবীণকুমার।আবার মনে হতো নাআমি আসলে গঙ্গা।আবার একটু পরে মনে হয়েছে গঙ্গা নবীন সববাদ,আমিই মধুসূদন।উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রটা কিন্তু নবীনকুমার।তারজন্ম,ছোটবেলা এবং মৃত্যু পর্যন্ত এই উপন্যাসটি এগিয়ে চলছিল।তার মৃত্যুর মধ্য দিয়েই উপন্যাসের সমাপ্তি ঘটে।আসলে লেখক এমনভাবে চরিত্রগুলো সাজিয়েছেন,একজনপাঠককে সেই চরিত্রের সাথে নিজেকে মেলাতেও দ্বিধায়পড়তে হবে।উপন্যাসটা পড়ে পাঠকের মনে একটা গভীর দাগ কেটে যাবে।না,সেই দাগ খারাপ লাগার কোনো কালো দাগ নয়।সেই দাগটাহবে ভালোলাগার রঙিন একটা দাগ।

  • Shahidul Nahid
    2019-03-19 14:46

    * আমরা কথায় কথায় পাকিস্তানিদের ধুয়ে দিয়ে ... হয়তো মনে করি, এরই নাম দেশপ্রেম। কিন্তু বৃটিশরা আমাদের উপমহাদেশে যা করে গিয়েছিল, তা কি গ্রহণযোগ্য? সেই পাপের জন্যে কতটুকুনই বা হৃদয়ে ঘৃণা জমা আছে আমাদের ? যা দিয়েছে, তার বিপরীতে কী পরিমাণ নিয়ে গিয়েছে, সে হিসাব কী আমাদের আছে ? এমন একটা শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করে গিয়েছে, যা শুধু কেরানীই বানায়, অফিসার আর হওয়া লাগে না। বাঙালীর মেরুদণ্ড অনেক আগে থেকেই ভাঙ্গা, আরো বেশি করে, কোমর ভেঙ্গে দিয়েছে তারা, তাদের শাসনের নামে শোষণের সময়কালে।* জীবনে যারা বড় বড় কাজ করে, তাদের ব্যক্তিগত জীবন কেমন ? তারাও তো রক্ত মাংসের মানুষ। ভুল ত্রুটি তো তারাও কম বেশি করে, তা তো সব্বাই বলে না ... * মুখে অনেক কিছুই বলা যায়... কিন্তু বাস্তবতা? সে তো বড্ড কঠিন... বড্ড পাথুরে এক পথ! অন্ধকার গুহার শেষ দেখার মনের শক্তির ক'জনেরই বা আছে!* ঐতিহাসিক কাহিনীর বর্ণনার পাশাপাশি, কিছুটা ফিকশনের সাহায্য নেওয়া। অসাধারণ বর্ণনা করার ক্ষমতা। মনমুগ্ধ হয়ে পড়ে যাওয়ার মতোন বই ...যদিও আমি মাঝে অনেকটা সময় গ্যাপ দিয়েছিলাম বইটাতে... কিন্তু গত কয়েকদিন টানা পড়েছি আর? মুগ্ধতা!

  • S Chattopadhyay
    2019-03-12 16:05

    The book serves as a great introduction to not only the conditions of Bengal in the mid nineteenth century but also manages to place the contributions of luminaries such as Vidyasagar in context. It is an exploration of how an enlightened generation of Bengalis managed to bring about social reform and enrich the Bengali language with new forms of literature and poetry, thereby contributing to the strong literary heritage that it has today. Along with the historical context , the story of Nabinkumar Singha is inter-wined with great finesse and this is where the author's imagination has to be credited. Nabinkumar's story(based on the late Kaliprassanna Singha) is masterfully told and never appears to be out of sync with the historical narrative that accompanies it. A thoroughly brisk read, the book successfully manages to reinvigorate interest in the history of the time and presents to us a lot of well known as well as forgotten/obscure figures in a new light.

  • সাকিব জয়
    2019-03-01 10:05

    সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না।গল্পটা সময়ের।টিক টিক করে বয়ে চলা সময়ের গল্প নয় এটা।এই গল্প রক্ত-মাংসের সময়ের!এই সেই সময় যখন কলকাতার বাবু সমাজ সুরা, নারী ও বুলবুলী-বিলাসে মগ্ন, যখন ঘুণে ধরা সমাজের নব্য শিক্ষিত যুবকেরা প্রাণপণে ইংরেজ অনুকরণে মত্ত, চারিদিকে খ্রিষ্টান ধর্মের জয়জয়কার।এদিকে গ্রাম নিঃস্ব করে প্রাজাদের স্কন্ধ্রে খাজনা নামক অনায্য বোঝা চাপিয়ে সেই অর্থে চলছে সংস্কৃতি চর্চা, সমাজ আর ধর্ম সংস্কার।এই গল্প আমার গল্প।আমার অতীতের গল্প।আর কার?নবীনকুমার সিংহের গল্প। তা বেড়ে উঠার গল্প। তার আশে পাশের সমাজের গল্প।গল্পটা গঙ্গানারায়ণের।বিধুশেখর বাবুর।রাইমোহনও আছে এই গল্পে।বিম্ববতী নামে এক মমতাময়ী মায়ের গল্পে। যে সহস্র কষাঘাত সহ্য করে গিয়েছেন নিজের সংসারের জন্য।সময় বড়ই অদ্ভুদ।আর সুনীল বাবুর ‘সেই সময়’ আরো এক কাঠি সরেস।গল্পে থ্রিল চান?হয়তো পাবেন নাকিন্তু বিস্ময়ে বাক্যহারা হতে চাচ্ছেন?সব রথীমহারথী দের জীবন্ত দেখতে চান দুই মলাটে বসে থাকা কালো হরফের মাঝে?তবে হাতে তুলে নিন সেই সময়।কেন বললাম ?মাইকেল মধুসূদন দত্ত কে চেনেন কি ভাবে?জানেন তার অতীত?উত্তর খুজে পাবেন সেই সময়ের পাতায়।ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর!বাংলা গদ্যের জনক হিসেবেই চেনেন! আর সমাজ সংস্কারক হিসেবে তার অবদান কতখানি?কতটুকু ধারণা আছে আপনার?নীলদর্পনের নাম শুনেছেন?শুনেছেন দীন বন্ধু মিত্রের কথা?বলুন তো সিপাহী বিদ্রোহ এর প্রথম সূতিকাগার কাকে বলা হয়?কে প্রথম সাহেবদের মুখে বন্দুক তাক করে?এমন অনেক জানা না জানা স্বর্ণাক্ষরে রচিত সময়ের সাক্ষী ‘সেই সময়’।বইটিতে লেখক তার সুনিপুণ লেখনীতে ফুটিয়ে তুলেছেন ১৮৪০-১৮৭০ এর সময়ে ঘটে যাওয়া সব ঘটনাবলী।ঐতিহাসিক ঘটনার এত সাবলীল বর্ণনাও হতে পারে তা এই বই না পড়লে জানা সম্ভব হত না।উত্থান-পতন, জন্ম-মৃত্য নিয়ে আমাদের চারপাশ।জীবন বড়ই বৈচিত্র্যময়। আর ১৮ শতকের জীবনযাত্রা ছিল আরো বৈচিত্র্যময়।সেই বৈচিত্র্যময়তাকে উপজীব্য করেই সুনীল বাবুর ‘ সেই সময়’ এগিয়ে গিয়েছে সেই সময়ের বাঁকে বাঁকেকিছু কিছু বই আছে যা না পড়া থাকলে নিজেকে পাঠক বলে পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করে।কিছু কিছু বই থাকে যাতে বুঁদ হয়ে যেতে সময় লাগে না এক মুহর্তও । আবার বইটি শেষ করার পর ঘোর লেগে থাকে নিজের আশে পাশের পুরোটা জুড়ে।নিজেকে ওই দুই মলাটের মাঝে সুপ্ত এক চরিত্র হিসেবে কল্পনা করতে।নিজেকে মাঝে মাঝে নবীনকুমার, কখনো বা গঙ্গানারায়ণ কখনো উচ্চাকাঙ্ক্ষী মধুর মাঝে হারিয়ে ফেলেছি নিজেকে সময়ের অন্তরালে সেই সময়ের প্রতিটি বাঁকে বাঁকে।বইয়ের মাঝে গন্ধ পাওয়া যায় জানেন?সেদো মাটির গন্ধ। বৃষ্টির ঘ্রাণ।নদীর তীরের দখিনা বাতাস।কিংবা সহধর্মিণীর সদ্য স্নান শেষে ভেজা চুলের গন্ধসেই রমনীর চপলতা, ঝংকার তোলা হাসি।কিংবা ভোর রাতে (নাহ থাক বাচ্চাকাচ্চা আছে অফ যাই

  • Treena Sengupta
    2019-03-03 10:39

    One of the best period 'fiction' on Bengal! This book originally written in Bengali, Kudos Aruna chakrabarti, for amazing translation for the lesser mortals like us! The book capture and articulates so well the Bengal Renaissance period of 1840 to 1870, a period so full of intellectuals, Writers, philosophers, freedom fighters; needless to mention also worthless wealthy leeches, psychopants, adulterers. Calcutta being the British capital; Bengali Babus caught between the imitating western culture and abiding by our age old tradition and culture. Talk about it all of the issues around education for women, widow remarriage, Brahmo 'Hinduism', English education, rise of Christianity, challenging caste systems, social hypocrisy of the wealthy, suppression of poor peasants and New found respect about Bengali literature, poetry and improvement of Mother tongue, Sepoy Mutiny... Many more the book captures so meticulously! It dawns on you there were so many grounds Calcutta was getting drawn into being in the epicentre of British movement. In totality, it is a great mirror not only what Bengal went thru, how it's stalwarts like vidyasagar, Harish Mukherjee, kali prasanna, debendranath, Bethune influenced the way we live today, enjoy education and liberation we have today, but also how we would have been as a society in India if this wave didn't ride thru. Enjoyed this piece of lost world immensely. A informative read and ride!

  • পীয়্যান নবী
    2019-03-21 16:03

    সেই সময়টা নিয়ে তেমন একটা জানতাম না। বাবু কালচার, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, ব্রাহ্ম ধর্ম, সিপাহী বিদ্রোহ... এইরকম কয়টা বিষয় নিয়ে কয়েক ছটাক ধারণা ছিল। ধারণার আবার একটা বড় অংশই ভ্রান্তও বটে। অমন সাধারণ ধারণা নিয়ে বইটা পড়া। বলছি না খুব বেশি কিছু জেনে গেলাম, আর উপন্যাস পড়ে অনেক কিছু জানতেই হবে তেমনটাও নিশ্চয়ই না! তবে সুনীলবাবু যেন ৭০০ পৃষ্ঠায় ঐ সেই সময়টাকে একেবারে বিছিয়ে দিয়েছেন একটা সবুজ মাঠের মতন। ঘুরে বেড়ানো যায় আনন্দে। আনন্দ নিয়েই পড়েছি। প্রথম খন্ডের শেষ পৃষ্ঠা খুব মনঃকষ্টে রেখেছিল। দ্বিতীয় খন্ডের শেষ অধ্যায়টাও তাই। আর বাকিটা সময় ছিলাম মন্ত্রমুগ্ধ। সুনীলবাবু জানেন, কিভাবে পাঠককে ৭০০ পৃষ্ঠা চুম্বকের মতন আটকে রাখা যায়। অবশ্য 'প্রথম আলো' আর 'পূর্ব-পশ্চিম' আগে পড়ে ফেলবার কারণে আমার বিশেষ অবাক ঠেকেনি। নবীনকুমান সিংহ চরিত্রটা দিয়ে যেভাবে কালিপ্রসন্ন সিংহের চিত্রায়নটা ছিল অসাধারণ। দ্বারকানাথ ঠাকুর, দেবেন্দ্রবাবু, মাইকেল, বিদ্যাসাগর, দিনবন্ধু মিত্র সহ আরও যেসব ঐতিহাসিক চরিত্র এসেছেন, বইয়ে প্রায় প্রত্যেকের আবির্ভাবই ছিল নক্ষত্রের মতন। আর সেই সময়টার সঙ্কট, পরিবর্তন, বিস্ময় সবটাই যেন চোখের সামনে ঘটছিল। সুনীলবাবুকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। আমার অবশ্যপাঠ্য বইয়ের তালিকায় আরেকটা বই। প্রশ্নাতীত পাঁচ তারকা।

  • Neerja
    2019-02-20 12:38

    Two delightful books by Sunil Gangopadhya (this one and its sequel First Light), translated from Bengali...which bring alive another time and and age..the awakening and dawn of India's struggle for independence...the changes in thought and the questioning of old beliefs and traditions which made this happen are woven into the story and its characters...a tale of change in its many many dimensions...written in simple and beautiful prose.

  • Muhammad Kamruzzaman
    2019-02-19 11:40

    সেই সময় বইটি ১৮৪০ থেকে ১৮৭০ সালের দৃশ্যপটে রচিত । তখনকার বিখ্যাত মানুষজনদের নাম , আমাদের কারোর ই অপরিচিত নয়। তাদের ই ব্যক্তিগত জীবন , আর্থ সামাজিক অবস্থা উঠে এসেছে এই উপন্যাসে । বেশ ভাল লেগেছে বইটি পড়ে। সংগ্রহে রাখার মত একটি বই ।

  • উত্তম লহুরা
    2019-03-09 13:07

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লিখা এবং আমার এযাবৎ কালে পড়া অসম্ভব সুন্দর একটি বই । গল্পের পটভূমির প্রতি মারাত্মক কৌতূহল থাকার কারণেই উপন্যাসটি পড়ে আরও বেশি আনন্দ পেয়েছি ।

  • Jyotirmoy Roy
    2019-03-02 10:02

    The best Bengali historical fiction that I've read. The way all the "times" merge into each other makes you just want to turn the pages one after another.

  • Kamrunnahar Dipa
    2019-02-20 09:55

    সাত মাস দশ দিন গর্ভ বাসের পর নবীকুমার নামের একটি শিশুর জন্ম সংবাদ দিয়ে শুরু হয়েছে দুই খণ্ডে রচিত এই সুবৃহৎ উপন্যাস। সময়টা ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ।‌ ‌‌ ‌ নবীনকুমারকে ছোট্ট বেলা থেকেই সর্ব বিষয়ে একটু বেশি অগ্রসরমান দেখা যায়। মাত্র আঠারো বছর বয়সে মহাভারত বাংলায় অনুবাদ করে সবাইকে অবাক করে দেয়। উত্তারাধিকার সুত্রে পাওয়া অঢেল সম্পদ সে নানা রকম সমাজ কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করে যখন সমাজটাই ডুবে আছে গাঢ় অন্ধকারে। ‌ ‌ ‌‌ কোলকাতার বাবু সমাজ এক অন্যরকম জীবন ধারায় অভস্ত। অধিকাংশ অশিক্ষিত কীংবা অল্প শিক্ষিত কিন্তু প্রচুর টাকার মালিক এসব বাবুরা একাধিক রক্ষিতা আর মদ্যপান নিয়েই কাটিয়ে দিচ্ছে ঈশ্বর প্রদত্ত আয়ুর সবটুকু সময়। যার যত রক্ষিতা তার তত সমাজে বড় মানুষ হিসেবে নাম!!!!?অন্যদিকে নব্য শিক্ষিত যুবকেরা বাংলা লিখতে বলতে লজ্জায় মরে যায়। মধূসুদন দত্তকেতো দেখে যায় আরো এককাঠি উপরে। কলেজের সামনে মদ খেয়ে মাতলামি করছে, কমপ্লিট স্যুট সে বাড়িতে ও পরে থাকে। গরু খাচ্ছে। ইংরেজরা রাজার জাত, তাদের সাথে মিশতে হলে, তাদের ভাষায় কবিতা লিখতে গেলে তাদের মতো তো হতেই হবে।বাড়িতেটি চুলায় অনবরত তার পছন্দের ডিশ রান্না হচ্ছে যাতে অতি অস্থির স্বভাবের মধূসুদন চাইবামাত্র তার খাবার সামনে হাজির হয়। সে কত দুষ্প্রাপ্য জিনিস চাইতে ‌পারে আর তার বাবা কত দ্রুত সেটা এনে দিতে পারে তা নিয়ে চলত বাবা ছেলের অলিখিত প্রতিযোগিতা।তাও সব ছেড়েছুড়ে এক সময়ে সে পাড়ি জমায় বিলেতে। অন্যদিকে ঠাকুর পরিবারের প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ।যার জীবন যাপনের জৌলুশে চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। ভারতীয়দের মধ্যে তিনিই প্রথম কালাপানি পাড়ি দিয়ে বিলেতে যান।যার বড় ছেলে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এমন বিলাসী জীবন যাপন শুরু করেছেন যে সবাই বলাবলি করছে যে ছেলে কাপ্তেনিতে বাবাকে ও ছাড়িয়ে যাবে।সবকালেই স্রোতের বিপরীতেও কিছু মানুষ ভেসে ডাঙায় ওঠে এবং অন্যদের ও তোলার চেষ্টা করে। তেমনি শ্বেত-শুভ্র চরিত্রের ঈশ্বরচন্দ্রকে দেখা যায় একেবারে অন্য রুপে। অতি মেধাবী এই মানুষটি তার জীবনটা যে সারা জীবন মানুষের কল্যাণে ব্যয় করেছেন তা বিষদভাবে উঠে এসেছে । বিধবা বিবাহের জন্য লড়াই করছেন, গরিব মানুষ কে সাহায্য করছেন। কর্ম ময় এক ব্যস্ত মানুষ।প্রথম বাংলা উপন্যাস প্রকাশ, মধূসুদনের মাইকেল মধুসূদন দত্ত হয়ে দীনহীন ভাবে দেশে ফিরে মাতৃভাষায় সাহিত্য রচনায় মনোনিবেশ, নবীন কুমারের জীবন-যাপন, প্রথম মেয়েদের বেথুন স্কুল প্রতিষ্ঠা সমকালীন সাধারণ মানুষের জীবনাচরন, আস্তে আস্তে বাঙ্গালীদের নবকীরন মেখে জেগে উঠার শ্রেষ্ঠ সময় এ উপন্যাসের মূল বিষয়।এ উপন্যাসের সমাপ্তি ঘটে মাত্র ত্রিশ বছর বয়সে নবীন কুমারের মৃত্যুর পর পরই। তখন ১৮৭০ সাল। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এত সুন্দর করে সঠিক তথ্যের সাথে সময়ইটাকে কলমের আঁচড়ে এঁকে ফেলা যে কোন কথাশিল্পীর কাজ নয়। এ কাজটাতে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মত শতভাগ সফল কারিগর আমি কমই পেয়েছি। ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে এসে সবাই হয়ে যাচ্ছে উপন্যাসের চরিত্র।ছোট-বড় সব চরিত্রের কি জীবন্ত উপস্থিতি। শুধু নবীনকুমার যে "হুতোম পেঁচার নকশা "এর রচয়িতা কালীপ্রসন্ন সিংহ এর ‌ছায়া তা বুঝতে আমার অনেক দেরি হয়েছে।🤔🤔🤔 তাতে অবশ্য বই পড়াতে কোন সমস্যা হয়নি।‌‌ আজ থেকে দেড়শ বছর আগের সময়, কিন্তু যখন পড়ি তখন মনে হয় আমি ওদেরই সময়ের। ভুলে যায় আমার অবস্থান। অতীত সবসময়ই নস্টালজিক!!!!!!

  • Samrat
    2019-02-23 09:40

    FOR BENGALI LANGUAGE READERS THE BENGALI VERSION IS RECOMMENDED

  • Subhradeep Chatterjee
    2019-03-14 16:44

    This is a translation of the magnum opus of Sunil Gangopadhyay- ‘Sei Samay’.I lack the requisite skills to understand the original, hence turned to this translation as a consolation, hence I am not qualified enough to judge the translation.But as a whole, the prose is lucid and pretty straightforward. Now coming to the subject matter the author has tackled the period of the Bengal Renaissance extending from the 1820 to the 1870s. The period that witnessed the awakening of the Bengali consciousness towards it’s responsibilities and obligations towards the society which gradually transcended into the realms of Nationalism. A work of historical fiction, the book is astounding in it’s subject matter as well as it’s scope. The author has beautifully captured the 20th century and at times the descriptions are so vivid that you feel like being transported to that era.It weaves a beautiful story where stalwarts like Vidyasagar, Debendranath and Dwarkanath, Michael Madhusudan Dutta and the protagonist, Nabin Kumar Singha all interact with each other amidst the backdrop of the Sepoy Mutiny and the Bengal Renaissance.The novel grips the reader right from the start and paints a vivid picture of a Bengal that stands on the brink of ushering in a newer age, an age of liberalisation by breaking off the chains of feudalism and superstitions and religious dogmatism. This forms the central theme of the story and the reader is invited into a journey through the 20th century.A must read for all, particularly people looking for Historical Fiction set in Bengal at the turn of the new century. Will definitely look forward to reading the sequel.My only regret is the inability to read the original, as the author meant it to be read.

  • MEHEDI
    2019-03-04 09:04

    সেই সময় – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।এই বইটাকে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা বই বলা যায়। ঐতিহাসিক উপন্যাসগুলোর ভেতর এই বইটা একদম শীর্ষেই থাকবে বলা যায়। বইয়ের চরিত্র উনিশ শতকের ঐতিহাসিক সব চরিত্র। বইটার প্রতিটা পৃষ্ঠাই মুগ্ধ করে। বেশ বড় এই বইটিতে সেই সময়ের সামাজিক অবস্থা খুবই সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।বইয়ের শুরু গঙ্গানারায়ণ নামের একজনের দ্বারা। গঙ্গানারায়ণের জীবনের নানা নাটকীয় উত্থান পতন লেখক তুলে এনেছেন। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ যে চরিত্র সেটা হচ্ছে নবীনকুমার। নবীনকুমারের জন্মের সময় থেকে শেষজীবন পর্যন্ত পুরো বইতে বর্ননা করা হয়েছে। সেসময় সবেমাত্র বাংলা সাহিত্যের সূচনা যুগ। বাংলা সাহিত্যের সেই শিশুকালে নবীনকুমারের অবদান দেখানো হয়েছে বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে। বাস্তবত, নবীনকুমার চরিত্রটি কালীপ্রসন্ন সিংহ। সুনীল এই একটি চরিত্রের ক্ষেত্রেই আসল নাম ব্যবহার করেননি।বইয়ের আরেকটা উল্লেখযোগ্য চরিত্র মধুসূদন দত্ত। পরবর্তীকালের মাইকেল মধুসূদন দত্ত। মধুকবির শৈশব থেকে বয়সকাল পর্যন্ত দেখানো হয়েছে এখানে। সেই সাথে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরও এই বইয়ের আরেকটা উল্লেখযোগ্য চরিত্র। বইটা পড়ার সময় যখন দেখছিলাম প্রায় সকল চরিত্রই পরিচিত আর বিখ্যাত, কেমন যেন শিহরিত হচ্ছিলাম। ভাবতে অবাক লাগেশুধুমাত্র ঐতিহাসিক চরিত্রের সমাবেশই নয়, তাদের সামাজিক ও পারিবারিক জীবনের বর্ণনাও খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন। সেই সময়ের বনেদি চালচলন সম্পর্কে বেশ জানতে পারলাম। সম্পূর্ন বইটা আমাকে প্রচন্ড মোহিত করেছিল। সবমিলিয়ে খুবই ভালো একটা বই। বাংলা সাহিত্যের এই অমর সৃষ্টি কারো পড়া বাকি তঘাকলে পড়ে ফেলুন।একনজরে,সেই সময়,সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়,আনন্দ ।আমার রেটিং – ৯/১০হ্যাপি রিডিং

  • Ranita
    2019-03-07 10:05

    Sunil Gangopadhyay created Shei Somoy, an outstanding and unforgettable chronicle of 19th century Bengal. It focuses on the Bengal Renaissance and our colonial past. The book speaks in Bengali, and since I am more comfortable reading in English, I picked up the translated version of this epic. Here is one book that is definitely not lost in translation. Aruna Chakravarti has undertaken a monumental task and executed it with aplomb. Those Days is a masterpiece and IMHO should be a required reading. Here's an interesting tidbit about how I came upon Those Days: Heading home from work, I boarded an Uber, finding my co-passenger already settled in. After the initial formalities, we fell into an easy chatter after discovering we speak the same language. Invariably our conversation veered towards literature, and he spoke in no uncertain terms that I absolutely must read Shei Shomoy/Those Days. I promised I would. There was serendipity involved in my arriving at this novel.

  • Abhishek
    2019-03-07 12:01

    A wonderfully written historical fiction around the lives of Vidyasagar, Michael Madhusudan Dutta and others. Life of Zamindars, of English Babus, of lowly laid peasants and of Women. A time when well bred or poor bred competed in intellectual pursuit, social pursuit and cultural pursuit. Bengali language coming of age and sycophancy around English learning. It captures all.

  • Nayeem Ahsan
    2019-02-18 15:45

    Hard to read the language of that time but beautiful build up of story and Ganganarayan is a marvelous character.The poem of Keats was so beautiful and appropriate for that particular situation.

  • Siddhartha Das
    2019-03-05 15:55

    The language and the flow is good. The imagery of the times is excellent but it ended miserably, without much answers.

  • Mamun Mahmud
    2019-02-27 16:07

    ইতিহাশ্রয়ী উপন্যাস লেখায় বাঙালী লেখকদের মধ্যে পরিশ্রম, কলেবর আর গুনগত উৎকর্ষে সুনীল চিরটাকাল এগিয়েই রইলেন ।